০৯:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬

ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানাল সম্পাদক পরিষদ

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৮:৩২:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
  • / ১০১৭১ বার দেখা হয়েছে

প্রস্তাবিত ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। ব্যাংক খাতে সুশাসন, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি সামনে রেখে এ উদ্বেগ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে তুলে ধরা হয়।

সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ, ব্যাংক সংস্কারের ধীরগতি, আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কেও মতবিনিময় হয়েছে।

নূরুল কবীর বলেন, ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর সম্পাদক পরিষদ গুরুত্বারোপ করেছে। কোনো ব্যাংক সংকটে পড়লে আমানতকারীদের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।তিনি আরও জানান, বৈঠকে গভর্নর ব্যাংক খাত সংস্কারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলমান উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাতে আস্থা ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে গভর্নর আশ্বাস দেন।আলোচনায় সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ধীরগতি, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের বিভিন্ন দিকও উঠে আসে।বৈঠক শেষে নূরুল কবীর বলেন, দেশের আর্থিক খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতির পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ব্যাংক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক সমকাল সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, ডেইলি সান সম্পাদক মো. রেজাউল করিম (লোটাস), সংবাদ সম্পাদক আলতামাশ কবির, আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক।

বৈঠক শেষে নূরুল কবীর বলেন, দেশের আর্থিক খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতির পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ব্যাংক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারা হলো ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’-এর একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিধান, যার মাধ্যমে একীভূত হওয়া বা রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় যাওয়া দুর্বল ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালকদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে আবারও ব্যাংকের মালিকানায় ফিরে আসার আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে করে ব্যাংক খাত লুটের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে আবারও মালিকানায় নিয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা/আরএইচ

শেয়ার করুন

ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়ে উদ্বেগ জানাল সম্পাদক পরিষদ

আপডেট: ০৮:৩২:১২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

প্রস্তাবিত ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সম্পাদক পরিষদ। ব্যাংক খাতে সুশাসন, আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং আর্থিক স্থিতিশীলতার বিষয়টি সামনে রেখে এ উদ্বেগ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে তুলে ধরা হয়।

সোমবার (৮ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গভর্নরের সঙ্গে সম্পাদক পরিষদের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে নিউ এজ সম্পাদক ও সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। তিনি জানান, দেশের ব্যাংকিং খাত বর্তমানে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। বিপুল অঙ্কের খেলাপি ঋণ, ব্যাংক সংস্কারের ধীরগতি, আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের নিশ্চয়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারার সম্ভাব্য প্রভাব সম্পর্কেও মতবিনিময় হয়েছে।

নূরুল কবীর বলেন, ব্যাংক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর সম্পাদক পরিষদ গুরুত্বারোপ করেছে। কোনো ব্যাংক সংকটে পড়লে আমানতকারীদের স্বার্থ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।তিনি আরও জানান, বৈঠকে গভর্নর ব্যাংক খাত সংস্কারে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চলমান উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুনর্গঠন এবং আর্থিক খাতে আস্থা ফেরাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে গভর্নর আশ্বাস দেন।আলোচনায় সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাংকিং খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের ধীরগতি, কর্মসংস্থান পরিস্থিতি এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের বিভিন্ন দিকও উঠে আসে।বৈঠক শেষে নূরুল কবীর বলেন, দেশের আর্থিক খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতির পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ব্যাংক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক সমকাল সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী, দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দিন, ডেইলি সান সম্পাদক মো. রেজাউল করিম (লোটাস), সংবাদ সম্পাদক আলতামাশ কবির, আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন, করতোয়া সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক।

বৈঠক শেষে নূরুল কবীর বলেন, দেশের আর্থিক খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতির পরিস্থিতি নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সমস্যাগুলো সম্পর্কে অবগত রয়েছে এবং সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। ব্যাংক খাতে আস্থা পুনরুদ্ধার এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ব্যাংক রেজুলেশন আইনের ১৮(ক) ধারা হলো ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’-এর একটি অত্যন্ত বিতর্কিত বিধান, যার মাধ্যমে একীভূত হওয়া বা রেজুলেশন প্রক্রিয়ায় যাওয়া দুর্বল ব্যাংকের সাবেক শেয়ারহোল্ডার ও পরিচালকদের নির্দিষ্ট কিছু শর্ত সাপেক্ষে আবারও ব্যাংকের মালিকানায় ফিরে আসার আইনি সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে করে ব্যাংক খাত লুটের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদেরকে আবারও মালিকানায় নিয়ে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

ঢাকা/আরএইচ