যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফের যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা
- আপডেট: ১০:২৫:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬
- / ১০১৭৮ বার দেখা হয়েছে
সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের এক সপ্তাহ পর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগে একে অপরের স্থাপনায় ফের পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ইরানের ড্রোন হামলার ‘জবাব’ হিসেবে প্রথমে ইরানের উপকূলীয় অঞ্চলে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন এ হামলার জবাবে ফের উপসাগরীয় অঞ্চলে বিভিন্ন মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক টেলিগ্রাম বার্তায় আইআরজিসির জানিয়েছে, ‘যদি আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটে, তাহলে আমাদের প্রতিক্রিয়া আরও ব্যাপক ও কঠোর হবে।’
এর আগে মার্কিন সেনাবাহিনী জানায়, হরমুজ প্রণালিতে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জবাবে তারা ইরানের কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ওই জাহাজে হামলার জন্য তেহরান দায়ী।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৬ জুন) দিবাগত রাতের এই অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সংরক্ষণাগার এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সামরিক অভিযান ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার পর অঞ্চলটিতে উত্তেজনা কমার আশা তৈরি হয়েছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে নতুন করে হামলা এবং এর জেরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপ সেই আশাকে আবারও অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে হয়। ফলে এ অঞ্চলে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’-তে হামলার ঘটনাকে ১৭ জুন স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের ‘বোকামিপূর্ণ লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেন।
ওই সমঝোতা স্মারকে লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান স্থায়ীভাবে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছিল। এর মাধ্যমে মূলত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এবং তেহরানের পাল্টা হামলা স্থগিত করার ভিত্তি তৈরি হয়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, সমঝোতা স্মারকটি কোনো চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি ছিল না; বরং পরবর্তী আলোচনার পথ সুগম করার একটি প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছিল।
ঢাকা/আরএইচ


































