৩ লাখ কোটি টাকা জালিয়াতি-পাচারের অভিযোগের বিষয়ে যা জানালো বিএটি
- আপডেট: ০৬:০৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬
- / ১০১৯৯ বার দেখা হয়েছে
বিগত ৫৫ বছরে বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) বিরুদ্ধে প্রায় ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি জালিয়াতি ও পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) বাংলাদেশের একজন মুখপাত্র বলেছেন, প্রতিষ্ঠানটি ১১৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং দেশের অন্যতম শীর্ষ করদাতা হিসেবে বাংলাদেশের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।
যথাযথ প্রক্রিয়ায় যোগাযোগ করা হলে বিএটি বাংলাদেশ আইন অনুযায়ী পূর্ণ সহযোগিতা করবে বলেও তিনি জানান।
রোববার (২৪ মে) কোম্পানিটি গণমাধ্যমকে এই তথ্য পাঠিয়েছে।
প্রসঙ্গত, কোম্পানিটির বিরুদ্ধে ওঠা অর্থপাচার ও জালিয়াতির রহস্য উন্মোচনে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি বিরোধী সংস্থাটির অনুসন্ধান টিম বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে।
সম্প্রতি দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অভিযোগ যাচাই-বাছাই করছে বলে গত শনিবার (২৩ মে) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে জয়েন্ট-স্টক কোম্পানিসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। নথিপত্র যাচাই শেষে যদি এই জালিয়াতির সত্যতা মেলে, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দুদকে আসা অভিযোগে বলা হয়, ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর করাচিতে ‘পাকিস্তান টোব্যাকো কোম্পানি’ (পিটিসি) পথচলা শুরু করে। পরে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় তাদের দুটি বড় কারখানা গড়ে তোলে। স্বাধীনতার পর আইনত এসব পরিত্যক্ত সম্পত্তির মালিক হওয়ার কথা ছিল বাংলাদেশ সরকারের। পিটিসি নিজেও করাচি থেকে এর বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ বুঝে নিয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, তৎকালীন পিটিসির ফাইন্যান্স ম্যানেজার এবং বাংলাদেশে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে দায়িত্বে থাকা জামালুদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট জালিয়াতি ও রাজনৈতিক প্রভাবে রাষ্ট্রীয় এই সম্পদ বহুজাতিক কোম্পানি ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর (বিএটি) দখলে সহায়তা করে। এই জালিয়াতির কারণে গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশ হারিয়েছে ২০ থেকে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
ঢাকা/এসএইচ



































