০৯:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
বিনিয়োগে গতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে চায় সরকার

কোম্পানি কর পাঁচ বছরের জন্য অপরিবর্তিত থাকছে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৭:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬
  • / ১০১৭২ বার দেখা হয়েছে

শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে করপোরেট করের হার আগামী পাঁচ বছর অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে উৎসে করকে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম হিসেবে বিবেচনা করা ও রপ্তানি প্রণোদনার ওপর কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এসব পদক্ষেপ থাকছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।

দেশের বিনিয়োগের গতি ফেরানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশকে সহজ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এমন প্রস্তাবনা রেখেছে এনবিআর। সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দিতে বিদ্যমান করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। তবে যেসব খাতে করের হার কিছুটা বেশি রয়েছে, করের পরিধি বাড়ানাের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে সেগুলো ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে।

ব্যবসায়িক তারল্য বাড়াতে ব্যবসার অনুমোদন অযোগ্য খরচ বাড়িয়ে এবং উৎসে কর কর্তন না করার কারণে ব্যয় অগ্রাহ্য করার বিদ্যমান বিধান বিলোপের মাধ্যমে বাজেটে করদাতার কার্যকরী করভার কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে। এ ছাড়া অডিটের জন্য মামলা নির্বাচন এবং উৎসে কর যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও অটোমেটেড করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাজেটে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে আগের মতোই ৫ শতাংশ বহাল রেখে করপোরেট করহার প্রস্তাব করবে এনবিআর। নতুন সংযোজন হচ্ছে, আইপিওর পাশাপাশি সরাসরি তালিকাভুক্ত (ডিরেক্ট লিস্টিং) হয়ে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করলে করহার হবে সাড়ে ২২ শতাংশ। তবে এ ধরনের কোম্পানির সব আয় ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হলে করহার হবে ২০ শতাংশ। অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার হবে সাড়ে ২৭ শতাংশ। তবে এই শ্রেণির কোম্পানিও সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করলে করহার হবে ২৫ শতাংশ। ব্যাংক, বীমা ও ফাইন্যান্স কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে করহার সাড়ে ৩৭ অ-তালিকাভুক্ত হলে করহার হবে আগের মতো ৪০ শতাংশ।
এ ছাড়া সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানির জন্য আগের মতোই সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ করহার থাকছে, সঙ্গে অতিরিক্ত আড়াই শতাংশ সারচার্জ যুক্ত থাকবে। মোবাইল অপারেটরদের জন্য সাধারণ করহার ৪৫ শতাংশই থাকছে। তবে কোনো কোম্পানি পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হলে করহার হবে ৪০ শতাংশ।

তবে মোবাইল কোম্পানিগুলোকে আরও বেশি পরিমাণ শেয়ার ছাড়তে উৎসাহিত করতে কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব করা হতে পারে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো মোবাইল কোম্পানি কমপক্ষে ২০ শতাংশ শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে বিক্রি করলে সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বছরে প্রযোজ্য আয়করের ওপর ১০ শতাংশ হারে রেয়াত দেওয়া হবে।
ব্যবসার নগদ প্রবাহ বা তারল্য বাড়াতে এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর ছয় থেকে কমিয়ে চার শতাংশ করা হতে পারে। রপ্তানি আয় থেকে প্রাপ্ত নগদ প্রণোদনার ওপর উৎসে কর ১০ থেকে কমিয়ে পাঁচ এবং রিফাইনারি কর্তৃক জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর দেড় শতাংশ থেকে কমিয়ে এক শতাংশ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় সংস্কার আসছে ন্যূনতম করের ক্ষেত্রে। এতদিন করযোগ্য বা কম আয় থাকা সত্ত্বেও উৎসে কর্তিত করকে বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কর হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যা ব্যবসার পুঁজি সংকট তৈরি করত। আন্তর্জাতিক বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজেটে উৎসে কর্তিত করকে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হবে। ফলে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত পরিশোধিত উৎসে কর ফেরত পাওয়ার পথ সুগম হবে। আগামী অর্থবছর থেকেই এ সুবিধা দিতে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সমকালকে বলেন, ‘রপ্তানির ওপর প্রণোদনা হচ্ছে এক ধরনের সহায়তা। এর ওপর উৎসে কর থাকা অনুচিত। আমরা এটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার চেয়েছিলাম। এ ছাড়া উৎসে করের ক্ষেত্রে নেওয়া উদ্যোগ স্বাভাবিক। তবে প্রতিষ্ঠানের অ্যাসেসমেন্ট যেন যথাযথভাবে হয়। অন্যথায় অগ্রিম করের অতিরিক্ত অর্থ ব্যবসায়ীরা সহজে ফেরত পাবেন না।’

আগামী বাজেটে সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দেওয়া ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোজ্যতেল, চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনিসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫, ২ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এনবিআর বলছে, এতে বাজারে পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি কমবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।
এ ছাড়া কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফ করা হচ্ছে। ফলে প্রতি ডায়ালাইসিসে প্রায় ৬০০ টাকা খরচ কমবে। শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য আমদানি করা ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়কর দুই শতাংশ থেকে কমিয়ে এক শতাংশ করা হয়েছে। স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে কর পাঁচ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ, পরিবেশবান্ধব ট্রাফিকের জন্য ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন, ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে উৎসে কর বাতিল। কম্পিউটার প্রিন্টার, মডেম, ফ্ল্যাশ মেমোরি আমদানিতে অগ্রিম কর পাঁচ থেকে কমিয়ে দুই শতাংশ করা হচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয় মোবাইল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর কমিয়ে এক শতাংশ করা হচ্ছে।

দেশে ভোজ্যতেল নিয়ে প্রায় সময় সংকট ও দাম বাড়ার ঘটনা ঘটে। তাই ভোজ্যতেলের সরবরাহ বাড়াতে চায় এনবিআর। এ জন্য দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদন করলে আগামী ১০ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দিতে যাচ্ছে সংস্থাটি। এনবিআর মনে করে, এর মাধ্যমে কৃষি খাতে বিনিয়োগ ও দেশে ভোজ্যতেলের উৎপাদন বাড়বে।
রাজস্ব আয় বাড়াতে করের হার না বাড়িয়ে করের পরিধি বা ভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য বেশ কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করা হতে পারে।

এ ছাড়া তরুণ, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং আয় এবং কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয়কে সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হবে। স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি খাতের জন্য শূন্য টার্নওভার কর নির্ধারণ করা হতে পারে। এসএমই খাতে পুরুষ উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ এবং নারী ও প্রতিবন্ধীদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্জিত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকবে।

ঢাকা/আরএইচ

শেয়ার করুন

বিনিয়োগে গতি ও কর্মসংস্থান বাড়াতে চায় সরকার

কোম্পানি কর পাঁচ বছরের জন্য অপরিবর্তিত থাকছে

আপডেট: ০৭:৩১:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

শিল্পোদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে করপোরেট করের হার আগামী পাঁচ বছর অপরিবর্তিত রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার। একই সঙ্গে উৎসে করকে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম হিসেবে বিবেচনা করা ও রপ্তানি প্রণোদনার ওপর কর কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে এসব পদক্ষেপ থাকছে বলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে জানা গেছে।

দেশের বিনিয়োগের গতি ফেরানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ব্যবসায়িক পরিবেশকে সহজ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে এমন প্রস্তাবনা রেখেছে এনবিআর। সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানান, ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি এবং বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদি নিশ্চয়তা দিতে বিদ্যমান করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে। তবে যেসব খাতে করের হার কিছুটা বেশি রয়েছে, করের পরিধি বাড়ানাের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে সেগুলো ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হবে।

ব্যবসায়িক তারল্য বাড়াতে ব্যবসার অনুমোদন অযোগ্য খরচ বাড়িয়ে এবং উৎসে কর কর্তন না করার কারণে ব্যয় অগ্রাহ্য করার বিদ্যমান বিধান বিলোপের মাধ্যমে বাজেটে করদাতার কার্যকরী করভার কমানোর প্রস্তাব করা হচ্ছে। এ ছাড়া অডিটের জন্য মামলা নির্বাচন এবং উৎসে কর যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও অটোমেটেড করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বাজেটে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে আগের মতোই ৫ শতাংশ বহাল রেখে করপোরেট করহার প্রস্তাব করবে এনবিআর। নতুন সংযোজন হচ্ছে, আইপিওর পাশাপাশি সরাসরি তালিকাভুক্ত (ডিরেক্ট লিস্টিং) হয়ে পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করলে করহার হবে সাড়ে ২২ শতাংশ। তবে এ ধরনের কোম্পানির সব আয় ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন হলে করহার হবে ২০ শতাংশ। অ-তালিকাভুক্ত কোম্পানির করহার হবে সাড়ে ২৭ শতাংশ। তবে এই শ্রেণির কোম্পানিও সব লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে করলে করহার হবে ২৫ শতাংশ। ব্যাংক, বীমা ও ফাইন্যান্স কোম্পানি শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হলে করহার সাড়ে ৩৭ অ-তালিকাভুক্ত হলে করহার হবে আগের মতো ৪০ শতাংশ।
এ ছাড়া সিগারেট, বিড়ি, জর্দা, গুলসহ সব ধরনের তামাকজাত পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানির জন্য আগের মতোই সর্বোচ্চ ৪৫ শতাংশ করহার থাকছে, সঙ্গে অতিরিক্ত আড়াই শতাংশ সারচার্জ যুক্ত থাকবে। মোবাইল অপারেটরদের জন্য সাধারণ করহার ৪৫ শতাংশই থাকছে। তবে কোনো কোম্পানি পরিশোধিত মূলধনের ন্যূনতম ১০ শতাংশ শেয়ার স্টক এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে তালিকাভুক্ত হলে করহার হবে ৪০ শতাংশ।

তবে মোবাইল কোম্পানিগুলোকে আরও বেশি পরিমাণ শেয়ার ছাড়তে উৎসাহিত করতে কর রেয়াত দেওয়ার প্রস্তাব করা হতে পারে। খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো মোবাইল কোম্পানি কমপক্ষে ২০ শতাংশ শেয়ার আইপিওর মাধ্যমে বিক্রি করলে সে ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বছরে প্রযোজ্য আয়করের ওপর ১০ শতাংশ হারে রেয়াত দেওয়া হবে।
ব্যবসার নগদ প্রবাহ বা তারল্য বাড়াতে এবং উৎপাদন ব্যয় কমাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের ওপর উৎসে কর ছয় থেকে কমিয়ে চার শতাংশ করা হতে পারে। রপ্তানি আয় থেকে প্রাপ্ত নগদ প্রণোদনার ওপর উৎসে কর ১০ থেকে কমিয়ে পাঁচ এবং রিফাইনারি কর্তৃক জ্বালানি তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে উৎসে কর দেড় শতাংশ থেকে কমিয়ে এক শতাংশ করার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
সবচেয়ে বড় সংস্কার আসছে ন্যূনতম করের ক্ষেত্রে। এতদিন করযোগ্য বা কম আয় থাকা সত্ত্বেও উৎসে কর্তিত করকে বাধ্যতামূলক ন্যূনতম কর হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যা ব্যবসার পুঁজি সংকট তৈরি করত। আন্তর্জাতিক বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজেটে উৎসে কর্তিত করকে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব করা হবে। ফলে ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত পরিশোধিত উৎসে কর ফেরত পাওয়ার পথ সুগম হবে। আগামী অর্থবছর থেকেই এ সুবিধা দিতে সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।

এ বিষয়ে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান সমকালকে বলেন, ‘রপ্তানির ওপর প্রণোদনা হচ্ছে এক ধরনের সহায়তা। এর ওপর উৎসে কর থাকা অনুচিত। আমরা এটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার চেয়েছিলাম। এ ছাড়া উৎসে করের ক্ষেত্রে নেওয়া উদ্যোগ স্বাভাবিক। তবে প্রতিষ্ঠানের অ্যাসেসমেন্ট যেন যথাযথভাবে হয়। অন্যথায় অগ্রিম করের অতিরিক্ত অর্থ ব্যবসায়ীরা সহজে ফেরত পাবেন না।’

আগামী বাজেটে সাধারণ জনগণকে স্বস্তি দেওয়া ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোজ্যতেল, চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনিসহ প্রায় ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় ও কৃষিপণ্যের ওপর উৎসে করের হার ৫, ২ ও ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করা হচ্ছে। এনবিআর বলছে, এতে বাজারে পণ্যের দাম ও মূল্যস্ফীতি কমবে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী হবে।
এ ছাড়া কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানিতে বিদ্যমান ৫ অগ্রিম কর সম্পূর্ণ মওকুফ করা হচ্ছে। ফলে প্রতি ডায়ালাইসিসে প্রায় ৬০০ টাকা খরচ কমবে। শারীরিকভাবে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ব্যবহারের জন্য আমদানি করা ১৫টি পণ্যের অগ্রিম আয়কর দুই শতাংশ থেকে কমিয়ে এক শতাংশ করা হয়েছে। স্বর্ণ ও স্বর্ণালংকার সরবরাহে উৎসে কর পাঁচ শতাংশ থেকে কমিয়ে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ, পরিবেশবান্ধব ট্রাফিকের জন্য ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন, ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে উৎসে কর বাতিল। কম্পিউটার প্রিন্টার, মডেম, ফ্ল্যাশ মেমোরি আমদানিতে অগ্রিম কর পাঁচ থেকে কমিয়ে দুই শতাংশ করা হচ্ছে। এ ছাড়া স্থানীয় মোবাইল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ২২টি কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম কর কমিয়ে এক শতাংশ করা হচ্ছে।

দেশে ভোজ্যতেল নিয়ে প্রায় সময় সংকট ও দাম বাড়ার ঘটনা ঘটে। তাই ভোজ্যতেলের সরবরাহ বাড়াতে চায় এনবিআর। এ জন্য দেশীয় তৈলবীজ ব্যবহার করে ভোজ্যতেল উৎপাদন করলে আগামী ১০ বছরের জন্য কর অব্যাহতি দিতে যাচ্ছে সংস্থাটি। এনবিআর মনে করে, এর মাধ্যমে কৃষি খাতে বিনিয়োগ ও দেশে ভোজ্যতেলের উৎপাদন বাড়বে।
রাজস্ব আয় বাড়াতে করের হার না বাড়িয়ে করের পরিধি বা ভিত্তি সম্প্রসারণের জন্য বেশ কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের প্রস্তাব করা হতে পারে।

এ ছাড়া তরুণ, নারী ও প্রতিবন্ধী উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে সব ধরনের ফ্রিল্যান্সিং আয় এবং কনটেন্ট ক্রিয়েশন থেকে অর্জিত আয়কে সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখার প্রস্তাব করা হবে। স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি খাতের জন্য শূন্য টার্নওভার কর নির্ধারণ করা হতে পারে। এসএমই খাতে পুরুষ উদ্যোক্তাদের ৫০ লাখ এবং নারী ও প্রতিবন্ধীদের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্জিত আয় সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকবে।

ঢাকা/আরএইচ