০৯:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

পোশাক খাতে উৎস কর কমানো ও নগদ সহায়তায় কর অব্যাহতির দাবি

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৫:৩৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / ১০২৫৬ বার দেখা হয়েছে

বৈশ্বিক মন্দা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উৎসে কর হ্রাস, নগদ সহায়তায় কর অব্যাহতি ও সোলার পিভি সিস্টেমের কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দাবি করেছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ছাড়াও বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিজিএপিএমইএ ও বিজিবিএ-এর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, দেশের শীর্ষ রপ্তানি আয় অর্জনকারী তৈরি পোশাক খাত একটি সংকটময় সময় পার করছে। বিগত ৩ বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও বহু কারখানা আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এমন অবস্থায় আগামী বাজেটে সরকারের কাছে নীতি সহায়তা দরকার।

তিনি আরও বলেন, তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-২৬ সময়ে পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মোট পোশাক রপ্তানি আয় ৩.৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। কারখানাগুলো পরিমিত সক্ষমতায় চলতে পারছে না; ফলে ফিক্সড কস্ট আনুপাতিক হারে বেড়েছে।

এই কারণে পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ হারে আয়কর কর্তন অব্যাহতি, রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ০.৬৫ শতাংশ করা ও তা পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারণ করা এবং সাব-কন্ট্রাক্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক চুক্তির মূল্য পরিশোধের সময় ৫ শতাংশ উৎসে আয়কর কর্তন হতে অব্যাহতির প্রস্তাব করে বিজিএমইএ।

এ ছাড়া সোলার পিভি সিস্টেমের কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দেওয়া এবং ইটিপি-সহ একাধিক কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দাবি করেছে সংগঠনটি।

বিজিএমইএ জানায়, বর্তমানে ঋণের সুদের হার ১২-১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট রয়েছে। ২০১৭-২০২৩ সময়কালে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম গত ৫ বছরে ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

পোশাক খাতে উৎস কর কমানো ও নগদ সহায়তায় কর অব্যাহতির দাবি

আপডেট: ০৫:৩৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

বৈশ্বিক মন্দা ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উৎসে কর হ্রাস, নগদ সহায়তায় কর অব্যাহতি ও সোলার পিভি সিস্টেমের কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দাবি করেছে তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

রোববার (২৬ এপ্রিল) বিকেলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভবনে প্রাক-বাজেট আলোচনা সভায় বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন।

সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান ছাড়াও বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিজিএপিএমইএ ও বিজিবিএ-এর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, দেশের শীর্ষ রপ্তানি আয় অর্জনকারী তৈরি পোশাক খাত একটি সংকটময় সময় পার করছে। বিগত ৩ বছরে প্রায় ৪০০টি পোশাক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে এবং আরও বহু কারখানা আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এমন অবস্থায় আগামী বাজেটে সরকারের কাছে নীতি সহায়তা দরকার।

তিনি আরও বলেন, তৈরি পোশাক খাত বর্তমানে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ফেব্রুয়ারি ২০২৫-২৬ সময়ে পূর্ববর্তী অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় মোট পোশাক রপ্তানি আয় ৩.৭৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। কারখানাগুলো পরিমিত সক্ষমতায় চলতে পারছে না; ফলে ফিক্সড কস্ট আনুপাতিক হারে বেড়েছে।

এই কারণে পোশাক শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে নগদ সহায়তার ওপর ১০ শতাংশ হারে আয়কর কর্তন অব্যাহতি, রপ্তানির বিপরীতে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে হ্রাস করে ০.৬৫ শতাংশ করা ও তা পাঁচ বছরের জন্য নির্ধারণ করা এবং সাব-কন্ট্রাক্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক চুক্তির মূল্য পরিশোধের সময় ৫ শতাংশ উৎসে আয়কর কর্তন হতে অব্যাহতির প্রস্তাব করে বিজিএমইএ।

এ ছাড়া সোলার পিভি সিস্টেমের কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দেওয়া এবং ইটিপি-সহ একাধিক কাঁচামালে শুল্ক সুবিধা দাবি করেছে সংগঠনটি।

বিজিএমইএ জানায়, বর্তমানে ঋণের সুদের হার ১২-১৫ শতাংশে পৌঁছেছে। পাশাপাশি জ্বালানি মূল্য বৃদ্ধি ও জ্বালানি নিরাপত্তা সংকট রয়েছে। ২০১৭-২০২৩ সময়কালে গ্যাসের দাম ২৮৬ শতাংশ এবং বিদ্যুতের দাম গত ৫ বছরে ৩৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালে ন্যূনতম মজুরি ৫৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনা করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

ঢাকা/এসএইচ