০৪:২৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
বাজেট ২০২৬-২৭

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৩:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
  • / ১০১৭৫ বার দেখা হয়েছে

শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, কম সময়সাপেক্ষ ও সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর করার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামী অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট আশ্বাস দেবেন বলে জানা গেছে।বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, আইপিওতে আবেদন দাখিল থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, ফি পরিশোধ, সংশোধন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের সব ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে আইপিও প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইপিওর পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে আরও গভীর, স্বচ্ছ, বহুমাত্রিক ও আস্থাভিত্তিক করতে সরকার যে বিস্তৃত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, সেগুলোর কথাও বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী।প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া সহজ করতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং অনুমোদন ও পরিপালন-সংক্রান্ত অস্পষ্টতা কমানো।

ইস্যুকারী কোম্পানি, ইস্যু ব্যবস্থাপক, স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিশ্চিত করা।পেনশন তহবিল, বীমা প্রতিষ্ঠান, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (এএমসি), মিউচুয়াল ফান্ডসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।করপোরেট বন্ড বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে পৌর বন্ড ইস্যুর ব্যবস্থা গ্রহণ।সরকারি ও বেসরকারি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অর্থায়নে বন্ড, সুকুক, তহবিলসহ বিভিন্ন অর্থায়ন উপকরণের ব্যবহার বাড়ানো।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, ব্যাংক, ব্রোকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্যব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা।দেশীয় কোম্পানির জন্য আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জে দ্বৈত তালিকাভুক্তির (রিজিওনাল ডুয়াল লিস্টিং) সম্ভাবনা যাচাই।নিরীক্ষক, মূল্যায়নকারী ও ইস্যু ব্যবস্থাপকসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের জন্য পেশাগত দায়বদ্ধতা কাঠামো এবং দায়বদ্ধতা বীমা প্রবর্তন।

পুঁজিবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা (সেটেলমেন্ট টাইম) বর্তমানের টি+২ থেকে ধাপে ধাপে কমিয়ে টি+০–তে নামিয়ে আনা।এছাড়া বৈধ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা এবং অনিবাসী বিনিয়োগকারী টাকা হিসাবের মাধ্যমে ক্রয়কৃত শেয়ার বা সিকিউরিটিজ বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রত্যাবাসন ও পুনঃবিনিয়োগের প্রক্রিয়া এক কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।অর্থনীতিবিদ ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে।

ঢাকা/আরএইচ

শেয়ার করুন

বাজেট ২০২৬-২৭

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হবে

আপডেট: ০৩:২৬:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

শেয়ারবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়াকে আরও সহজ, কম সময়সাপেক্ষ ও সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর করার ঘোষণা দিতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আগামী অর্থবছরের বাজেট বক্তৃতায় তিনি এ বিষয়ে স্পষ্ট আশ্বাস দেবেন বলে জানা গেছে।বাজেট প্রস্তাব অনুযায়ী, আইপিওতে আবেদন দাখিল থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র জমা, যাচাই-বাছাই, ফি পরিশোধ, সংশোধন এবং চূড়ান্ত অনুমোদনের সব ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন করা হবে। এর ফলে আইপিও প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রিতা ও প্রশাসনিক জটিলতা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইপিওর পাশাপাশি পুঁজিবাজারকে আরও গভীর, স্বচ্ছ, বহুমাত্রিক ও আস্থাভিত্তিক করতে সরকার যে বিস্তৃত পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে, সেগুলোর কথাও বাজেট বক্তৃতায় তুলে ধরবেন অর্থমন্ত্রী।প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে—ভালো ও সম্ভাবনাময় কোম্পানিগুলোর পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া সহজ করতে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা, অতিরিক্ত ব্যয় এবং অনুমোদন ও পরিপালন-সংক্রান্ত অস্পষ্টতা কমানো।

ইস্যুকারী কোম্পানি, ইস্যু ব্যবস্থাপক, স্টক এক্সচেঞ্জ, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিশ্চিত করা।পেনশন তহবিল, বীমা প্রতিষ্ঠান, সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি (এএমসি), মিউচুয়াল ফান্ডসহ অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।করপোরেট বন্ড বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে পৌর বন্ড ইস্যুর ব্যবস্থা গ্রহণ।সরকারি ও বেসরকারি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের অর্থায়নে বন্ড, সুকুক, তহবিলসহ বিভিন্ন অর্থায়ন উপকরণের ব্যবহার বাড়ানো।

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), স্টক এক্সচেঞ্জ, সিডিবিএল, ব্যাংক, ব্রোকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তথ্যব্যবস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা।দেশীয় কোম্পানির জন্য আঞ্চলিক স্টক এক্সচেঞ্জে দ্বৈত তালিকাভুক্তির (রিজিওনাল ডুয়াল লিস্টিং) সম্ভাবনা যাচাই।নিরীক্ষক, মূল্যায়নকারী ও ইস্যু ব্যবস্থাপকসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের জন্য পেশাগত দায়বদ্ধতা কাঠামো এবং দায়বদ্ধতা বীমা প্রবর্তন।

পুঁজিবাজারে লেনদেন নিষ্পত্তির সময়সীমা (সেটেলমেন্ট টাইম) বর্তমানের টি+২ থেকে ধাপে ধাপে কমিয়ে টি+০–তে নামিয়ে আনা।এছাড়া বৈধ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা এবং অনিবাসী বিনিয়োগকারী টাকা হিসাবের মাধ্যমে ক্রয়কৃত শেয়ার বা সিকিউরিটিজ বিক্রয়লব্ধ অর্থ প্রত্যাবাসন ও পুনঃবিনিয়োগের প্রক্রিয়া এক কর্মদিবসের মধ্যে সম্পন্ন করার ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।অর্থনীতিবিদ ও বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজারে নতুন কোম্পানি ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে এবং বাজারে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা আসবে।

ঢাকা/আরএইচ