০৯:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

ডিএসইর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দাবি ডিবিএর

বিজনেস জার্নাল প্রতিবেদক:
  • আপডেট: ০৪:৫২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ১০২৯৫ বার দেখা হয়েছে

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবি জানিয়েছে পুঁজিবাজারের ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। তাদের মতে, বর্তমান শ্রেণিবিন্যাস কাঠামো যুগোপযোগী না হওয়ায় বাজার বিশ্লেষণ ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

আজ বুধবার (জানুয়ারী ২১) ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) খন্দকার রাশেদ মাকসুদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ডিএসই বর্তমানে সরকারি ও কর্পোরেট বন্ড এবং মিউচুয়াল ফান্ডসহ মোট ২২টি খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস অনুসরণ করছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বর্তমান বৈশ্বিক পুঁজিবাজার কাঠামোর সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিশ্বের অধিকাংশ পুঁজিবাজারে এখন গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন স্ট্যান্ডার্ড (জিআইসিএস) অথবা ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন বেঞ্চমার্ক (আইসিবি) অনুসরণ করা হচ্ছে। এসব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড খাতভিত্তিক বিশ্লেষণকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও তুলনাযোগ্য করে তোলে, যা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ডিবিএ বিদ্যমান শ্রেণিবিন্যাসের অসংগতির কয়েকটি উদাহরণও তুলে ধরে। সংগঠনটি জানায়, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড বর্তমানে ‘ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড কেমিক্যালস’ খাতে এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ‘ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড’ খাতে তালিকাভুক্ত থাকলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এ দুটি কোম্পানিকে ‘কনজ্যুমার স্ট্যাপলস’ খাতে অন্তর্ভুক্ত করা অধিক যৌক্তিক। একইভাবে ওয়ালটন, সিঙ্গার, বাটা ও এপেক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘কনজ্যুমার ডিসক্রিশনারি’ খাতে শ্রেণিবদ্ধ করলে তাদের ব্যবসার প্রকৃতি ও ভোক্তা চাহিদাভিত্তিক কার্যক্রম আরও সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে।

ডিবিএর মতে, খাতভিত্তিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ অর্থনৈতিক প্রবণতা, ভোক্তা আচরণ এবং আয়ের প্রবাহ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু পুরনো ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রেণিবিন্যাস কাঠামো এসব বিশ্লেষণের গভীরতা ও কার্যকারিতা ব্যাহত করছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি গ্রহণ করা হলে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়বে, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তুলনাযোগ্যতা তৈরি হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার হবে বলে মনে করে সংগঠনটি।

চিঠির শেষাংশে ডিবিএ বিএসইসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে ডিএসইর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এই ধরনের সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজারের প্রতি দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাসযোগ্যতা, বিশ্লেষণগত সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক সংযুক্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

ঢাকা/এসএইচ

শেয়ার করুন

error: Content is protected ! Please Don't Try!

ডিএসইর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার দাবি ডিবিএর

আপডেট: ০৪:৫২:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার দাবি জানিয়েছে পুঁজিবাজারের ব্রোকারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ)। তাদের মতে, বর্তমান শ্রেণিবিন্যাস কাঠামো যুগোপযোগী না হওয়ায় বাজার বিশ্লেষণ ও বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে নানা সীমাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

আজ বুধবার (জানুয়ারী ২১) ডিবিএ সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান (সিনিয়র সচিব) খন্দকার রাশেদ মাকসুদের কাছে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, ডিএসই বর্তমানে সরকারি ও কর্পোরেট বন্ড এবং মিউচুয়াল ফান্ডসহ মোট ২২টি খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস অনুসরণ করছে, যা দীর্ঘদিন ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং বর্তমান বৈশ্বিক পুঁজিবাজার কাঠামোর সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, বিশ্বের অধিকাংশ পুঁজিবাজারে এখন গ্লোবাল ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন স্ট্যান্ডার্ড (জিআইসিএস) অথবা ইন্ডাস্ট্রি ক্লাসিফিকেশন বেঞ্চমার্ক (আইসিবি) অনুসরণ করা হচ্ছে। এসব আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানদণ্ড খাতভিত্তিক বিশ্লেষণকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও তুলনাযোগ্য করে তোলে, যা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ডিবিএ বিদ্যমান শ্রেণিবিন্যাসের অসংগতির কয়েকটি উদাহরণও তুলে ধরে। সংগঠনটি জানায়, ম্যারিকো বাংলাদেশ লিমিটেড বর্তমানে ‘ফার্মাসিউটিক্যালস অ্যান্ড কেমিক্যালস’ খাতে এবং ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ ‘ফুড অ্যান্ড অ্যালাইড’ খাতে তালিকাভুক্ত থাকলেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এ দুটি কোম্পানিকে ‘কনজ্যুমার স্ট্যাপলস’ খাতে অন্তর্ভুক্ত করা অধিক যৌক্তিক। একইভাবে ওয়ালটন, সিঙ্গার, বাটা ও এপেক্সের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে ‘কনজ্যুমার ডিসক্রিশনারি’ খাতে শ্রেণিবদ্ধ করলে তাদের ব্যবসার প্রকৃতি ও ভোক্তা চাহিদাভিত্তিক কার্যক্রম আরও সঠিকভাবে প্রতিফলিত হবে।

ডিবিএর মতে, খাতভিত্তিক পারফরম্যান্স বিশ্লেষণ অর্থনৈতিক প্রবণতা, ভোক্তা আচরণ এবং আয়ের প্রবাহ বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু পুরনো ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ শ্রেণিবিন্যাস কাঠামো এসব বিশ্লেষণের গভীরতা ও কার্যকারিতা ব্যাহত করছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি গ্রহণ করা হলে বাজারের স্বচ্ছতা বাড়বে, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে তুলনাযোগ্যতা তৈরি হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা জোরদার হবে বলে মনে করে সংগঠনটি।

চিঠির শেষাংশে ডিবিএ বিএসইসির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে ডিএসইর খাতভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এই ধরনের সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশের পুঁজিবাজারের প্রতি দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিশ্বাসযোগ্যতা, বিশ্লেষণগত সক্ষমতা এবং বৈশ্বিক সংযুক্তি আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

ঢাকা/এসএইচ